August 6, 2020

The Niche

Knoepfler lab stem cell blog

সস্য কোষ (স্টেম সেল) কাকে বলে? What are stem cells in Bengali

Note that this is post “সস্য কোষ (স্টেম সেল) কাকে বলে?” in Bengali is one part of our “Stem Cells Not Lost in Translation” series. You can see the full series of our stem cell white paper in the other 34 languages here.

Dr. Anwesha Ghosh, সস্য কোষ (স্টেম সেল) কাকে বলে?
Dr. Anwesha Ghosh, our volunteer translator for this page.
সস্য কোষ (স্টেম সেল) কাকে বলে?
মানবদেহে শত শত বিভিন্ন ধরণের কোষ (সেল) রয়েছে যা আমাদের প্রতিদিনের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই কোষগুলি প্রতিদিন আমাদের দেহকে চালিত রাখার জন্য কাজ করে, যেমন আমাদের হৃদয় ধরফর করে, মস্তিষ্ক চিন্তা করে, কিডনি আমাদের রক্ত ​​পরিষ্কার করে, আমাদের ত্বকের কোষগুলো বয়সের সাথে সাথে তাদের প্রতিস্থাপন করে ইতাদি। স্টেম সেল ভাগ হওয়ার সময় তারা নিজেরাই আরও স্টেম সেল তৈরি করতে পারে বা অনেক ধরণের কোষ তৈরি করতে পারে।উদাহরণস্বরূপ, ত্বকের স্টেম  সেলগুলো একই ধরনের আরও স্টেম সেল তৈরি করতে পারে বা ত্বকের আলাদা আলাদা  কোষ তৈরি করতে পারে যাদের নিজস্ব নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে যেমন মেলানিন রঞ্জক তৈরি করা কোষ।

স্টেম সেল আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আমরা যখন আহত বা অসুস্থ হয়ে পড়ি তখন আমাদের কোষগুলোও আহত হয় বা মারা হয়। এটি যখন ঘটে তখন স্টেম সেল সক্রিয় হয়।স্টেম সেলগুলো আমাদের আহত টিস্যুগুলো (দেহ কলা) ঠিক করার এবং নিয়মিতভাবে মারা যাওয়া অন্যান্য কোষগুলোর প্রতিস্থাপনের কাজ করে।এইভাবে আমাদের স্টেম সেলগুলো আমাদের সুস্থ রাখে এবং অকাল বৃদ্ধির হাত থেকে বাঁচায়। বলা যেতে জেতে, স্টেম সেল আমাদের নিজস্ব মাইক্রোস্কোপিক (আণুবীক্ষণিক) ডাক্তারদের  সেনাবাহিনীর মতো।

স্টেম সেল  কি কি ধরণের হয়?
স্টেম সেল বিভিন্ন আকারের হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে আমাদের দেহের প্রতিটি অঙ্গের নিজস্ব নির্দিষ্ট ধরণের স্টেম সেল রয়েছে।উদাহরণস্বরূপ, আমাদের দেহে নুতন রক্ত তৈরি হয় পুরনো ​​রক্ত ​​থেকে। রক্তের স্টেম সেলগুলো  হেমোটোপয়েটিক স্টেম সেল নামেও পরিচিত ।তবে মানব দেহে বিকাশের প্রথম দিন থেকেই স্টেম সেল উপস্থিত থাকে এবং বিজ্ঞানীরা এগুলি যখন বৃদ্ধি করায় তখন সেগুলকে  "ভ্রূণীয় (এম্ব্র্যনিক) স্টেম সেল" বলা হয়।বিজ্ঞানীরা ভ্রূণ স্টেম সেল  
সম্পর্কে উত্তেজিত হওয়ার কারণটি ' ভ্রূণীয় স্টেম সেলগুলোর প্রাকৃতির প্রাথমিক কাজ হল মানব বিকাশের সময় দেহের প্রতিটি অঙ্গ এবং টিস্যু তৈরি করা।এর অর্থ ' ভ্রূণ স্টেম সেল থেকে পৃথক করে প্রায় শত শত ধরণের মানব কোষগুলোর মধ্যে প্রায়  যেকোনো ধরেনের কোষ গঠন করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক স্টেম সেলগুলোর থেকে এটা করা কঠিন কাজ। উদাহরণস্বরূপ, যখন রক্তের স্টেম সেল কেবল রক্ত ​​তৈরি করতে পারে, তখন একটি ভ্রূণ স্টেম সেল রক্ত, হাড়, ত্বক, মস্তিষ্ক ইত্যাদি তৈরি করতে পারে। এছাড়াও, ভ্রূণ স্টেম সেল টিস্যু এমনকি অঙ্গগুলি তৈরির জন্য প্রকৃতির দ্বারা কার্যক্রম বা “প্রোগ্রাম” করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক স্টেম সেল থেকে এটা করা যায় না। এর অর্থ ' ভ্রূণে স্টেম সেলগুলোর রোগাক্রান্ত অঙ্গগুলো ঠিক করার বৃহত্তর প্রাকৃতিক ক্ষমতা রয়েছে। ভ্রূণ স্টেম সেলগুলো উর্বরতার চিকিৎসা থেকে অবশিষ্ট কিছু ভ্রূণ  তৈরি করা হয় যা কেবলমাত্র কয়েক দিনের পুড়নো, যা পরীক্ষাগারের কোনও থালায় তৈরি করা হয়েছিল, অন্যথায় যেটা ফেলে দেওয়া হত।

আইপিএস বা উত্সাহিত প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেলগুলো কী কী?
বিজ্ঞানীরা এবং চিকিৎকরা এক নতুন ধরণের স্টেম সেল "আইপিএস" সম্পর্কে আগ্রহী।আমাদের উত্তেজিত হওয়ার কারণটি ' আইপিএস কোষগুলোতে ভ্রূণ স্টেম সেলগুলোর মতো প্রায় সমস্ত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তবে একটি ভ্রূণ থেকে তৈরি হয় না। সুতরাং, আইপিএস কোষগুলোর সাথে কোনও নৈতিক উদ্বেগ নেই। এছাড়াও, আইপিএস কোষগুলো রোগীর নিজস্ব -স্টেম সেল থেকে তৈরি করা হয়, যার অর্থ আইপিএস কোষগুলো কোনও রোগীকে ইমিউন প্রত্যাখার ঝুঁকি ছাড়াই ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে; এটা কোনও স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্টের (অন্যত্র প্রতিস্থাপন করা) একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।
  
ভবিষ্যত কি ধারণ করে এবং স্টেম সেল ব্যবহার করে কিভাবে পরিবর্তন করতে পারে যাবে আপনার চিকিৎসা ব্যবস্থা? 
প্রকৃতিতে স্টেম সেলগুলো অসুস্থ বা পুরাতন কোষের প্রতিস্থাপনের কাজ করার কারণে বিজ্ঞানীরা  স্টেম সেলগুলো বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসার শর্তযুক্ত রোগীদের জন্য থেরাপি হিসাবে ব্যবহার করার ধারণাটি কল্পনা করেছেন। এখানে ধারণাটি ' কোনও অসুস্থ রোগীকে স্টেম সেল বা স্টেম সেল থেকে তৈরি আলাদা আলাদা কোষ দিয়ে আমরা তাঁর স্টেম সেল নিরাময়ের স্বাভাবিক ক্ষমতা ব্যবহার করে রোগীকে আবার সুস্থ করতে পারি। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনও রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয় তবে সেই রোগীকে থেরাপি হিসাবেস্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্টদেওয়ার মাধ্যমে তাঁর হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি মেরামত করা যাবে। যে স্টেম সেলগুলো আমাদের শরীরে প্রাকৃতিক  ভাবে  রয়েছে, সেগুলোর আমাদের দেহের আঘাত মেরামত করার ক্ষমতা সীমিত ।হার্টের উদাহরণে ফিরে যাওয়া যাক। হার্ট অ্যাটাক থেকে ক্ষতি স্থির করার জন্য হার্টের নিজস্ব স্টেম সেলগুলো সাথে লক্ষ লক্ষট্রান্সপ্ল্যান্ট স্টেম সেলগুলো’ প্রতিস্থাপন করলে চিকিৎসা আরও শক্তিশালী হবে। তাই রোগীদের নতুন স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে আমরা শরীরের সীমিত সংখ্যক প্রাকৃতিক স্টেম সেলগুলোর সক্ষমতা ছাড়িয়ে আরোগ্য লাভের ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারি। স্টেম সেল থেরাপিগুলো সুরক্ষা সহ আরও সাধারণ এবং সস্থা করে সবার জন্য উপলব্ধ করার আগে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা বাকি রয়েছে। স্টেম সেল সম্ভাব্যভাবে টিউমার গঠন করতে পারে এবং অনাক্রম্যতা প্রত্যাখ্যান করে। তবুও, স্টেম সেল সম্ভবত চিকিৎসার ধরণ রূপান্তরিত করতে পারে এবং সম্ভবত মাত্র এক বা দুই দশকের মধ্যে আমাদের পরিচিতর মধ্যে অনেকেরই বা আমারও স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট হতে পারে। স্টেম সেল ক্যান্সার, হার্ট ডিজিজ, পার্কিনসন ডিজিজ, একাধিক স্ক্লেরোসিস, স্ট্রোক, হান্টিংটনের রোগ, মেরুদণ্ডের আঘাত এবং আরও অনেক কিছু সহ বেশিরভাগ বড় রোগের  চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি রাখে।
 
বর্তমানে কি কি স্টেম সেল চিকিৎসা উপলদ্ধ আছে এবং কেন বেশিরভাগ চিকিৎসকরা আপনাকে সাবধানতা এগুলো অবলম্বন করা বা শেষ উপায় হিসাবে বিবেচনা করতে বলেন?
বর্তমানে, কয়েকটি স্টেম সেল প্রতিস্থাপন পাওয়া যায় যা বিজ্ঞানীরা নিরাপদ এবং কার্যকর উভয় হিসাবে প্রমাণিত করেছেন। এর সেরা উদাহরণ হাড় মজ্জা প্রতিস্থাপন। তবে, অনেক অপ্রমাণিত স্টেম সেল চিকিৎসার ধরণ বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে এবং স্পোর্টস স্টারদের মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিরা যখন এই চিকিৎগুলোর  বিজ্ঞাপন করেন, তখন এই প্রয়াস প্রচুর মনোযোগ পায় সারা পৃথিবীতে। সাধারণত, স্টেম সেল ক্ষেত্রের বিজ্ঞানীরা এবং চিকিৎসকরা রোগীদের এই ধরনের চিকিৎসার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন কারণ এই পধতিগুলো বাস্তবে কাজ করে কিনা এবং সেগুলো নিরাপদ কিনা তা  এখন স্পষ্টো নয়। দুরভাগ্য ক্রমে  রোগীরা এমন চিকিৎসার দ্বারা মারা গেছে। যখন কোনও সম্ভাব্য অসহনীয় পরিস্থিতি বা রোগের মুখোমুখি হওয়ায় সমস্ত বিকল্প বিবেচনা করা যুক্তিসঙ্গত, আমরা আপনাদের সুপারিশ করি যে আপনি কেবলমাত্র এই ধরনের চিকিৎসা সর্বশেষ অবলম্বন হিসাবে বিবেচনা করুন এবং কেবলমাত্র আপনার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের  সাথে কথা বলার পরে সিধান্ত নিন।
 

লিখেছেন পল ন্নোফ্লার

Translated by Dr. Anwesha Ghosh, Centre for Climate and Environmental Studies, Indian Institute of Science Education and Research Kolkata.